আমন ধানে বেশি কুশি ও সর্বোচ্চ ফলনের জন্য এবসাম (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট)
আমন ধানের সর্বোচ্চ ফলন ও বেশি কুশি পেতে “এবসাম” সারের জাদু!
বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে আমন ধান এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর আমাদের কৃষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশায়। তবে অনেক সময়ই দেখা যায় সঠিক সময়ে সঠিক পুষ্টি উপাদানের অভাবে ধানের কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি হয় না, পাতা হলুদ হয়ে যায়, কুশির সংখ্যা কম হয় এবং শেষ পর্যন্ত গোলায় ধান কম ওঠে — অথচ খরচ কমেনি একটুও।
আপনার আমন ক্ষেতকে সবুজে ভরিয়ে তুলতে এবং ধানের বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে একটি অভাবনীয় সমাধান হলো “এবসাম” (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট)।
“এবসাম” আসলে কী?
“এবসাম” হলো সুষম মাত্রায় তৈরি একটি বিশেষ কৃষিসার, যাতে রয়েছে:
ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
৯.৫%
সালফার (S)
১২.৫%
ধান গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং খাদ্য তৈরিতে এই দুটি গৌণ পুষ্টি উপাদান (Secondary Nutrients) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে — অথচ বেশিরভাগ কৃষক এই দুটি উপাদানের কথা জানেনই না।
🌾 আমন ধানে “এবসাম” কেন ব্যবহার করবেন?
ধান চাষে ইউরিয়া, টিএসপি বা পটাশের গুরুত্ব আমরা সবাই জানি, কিন্তু ম্যাগনেসিয়াম ও সালফারের গুরুত্ব অনেক সময় নজর এড়িয়ে যায় — আর এখানেই লুকিয়ে থাকে ফলনের আসল পার্থক্য।
কার্যকর কুশির (Tillers) সংখ্যা বহুগুণ বাড়ায়
ধান গাছের ফলন নির্ভর করে এর কার্যকর কুশির ওপর। রোপণের ২০-২৫ দিনের মধ্যে “এবসাম” ব্যবহার করলে গাছ দ্রুত উদ্দীপিত হয় এবং চারপাশ থেকে প্রচুর শক্তিশালী কুশি গজায়।
দ্রুত পাতা সবুজ ও সতেজ করে (Chlorosis দূরীকরণে)
ম্যাগনেসিয়াম হলো গাছের পাতার ক্লোরোফিলের মূল উপাদান। মাটিতে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে ধান গাছের পাতা হলুদ হতে শুরু করে। এবসাম ব্যবহারে পাতার হলদে ভাব দ্রুত দূর হয় এবং পুরো মাঠ গাঢ় সবুজ রূপ নেয়।
ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি
এবসামে থাকা সালফার মাটিতে থাকা ইউরিয়া (নাইট্রোজেন) এবং ফসফরাসকে গাছের সহজে গ্রহণ করতে সাহায্য করে। ফলে সারের অপচয় কমে এবং কম সারেও গাছ বেশি পুষ্টি পায় — মানে একই খরচে বেশি ফল।
চিটামুক্ত পুষ্ট ও ওজনদার দানা
ধানের থোড় আসার সময়ে বা তার আগে এবসাম ব্যবহার করলে ধানের ছড়াতে চিটা হওয়ার হার নাটকীয়ভাবে কমে যায়। চালের দানা শক্ত, পুষ্ট এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ওজনদার হয়।
💬 কৃষকরা কী বলছেন?
“প্রথমবার এবসাম ব্যবহার করার পর ১৫ দিনের মধ্যেই ক্ষেতের রঙ বদলে গেছে। কুশিও অনেক বেড়েছে।”
— একজন অভিজ্ঞ আমন চাষি
মাঠ পর্যায়ে বহু কৃষক ইতিমধ্যে ম্যাগনেসিয়াম-সালফার সমৃদ্ধ সার ব্যবহার করে ফলনে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পেয়েছেন — বিশেষ করে যেসব জমিতে বছরের পর বছর শুধু ইউরিয়া-টিএসপি-পটাশ ব্যবহার হয়ে আসছে, সেসব জমিতে পার্থক্যটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।
📅 কখন এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন?
প্রথম প্রয়োগ (কুশি গজানোর সময়)
চারা রোপণের ১৫ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে যখন প্রথম উপরিপ্রয়োগ (Top Dressing) করবেন, তখন ইউরিয়ার সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
দ্বিতীয় প্রয়োগ (থোড় আসার আগে)
ধানের থোড় আসার কায়াল বা প্রাথমিক অবস্থায় দ্বিতীয় কিস্তিতে ব্যবহার করুন।
📦 প্রয়োগ মাত্রা
মাটিতে ব্যবহারের জন্য
শতক প্রতি ১০০-১৫০ গ্রাম
(বা বিঘা প্রতি ৩-৪ কেজি)
স্প্রে করার ক্ষেত্রে
প্রতি লিটার পানিতে ৫-১০ গ্রাম
ভালোভাবে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করুন
সময়মতো সিদ্ধান্ত নিন
প্রথম টপ-ড্রেসিংয়ের সময়টাই এবসাম প্রয়োগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই ২০-২৫ দিনের উইন্ডো পার হয়ে গেলে কুশি বৃদ্ধির সুযোগ অনেকটাই কমে আসে — তাই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করলে এবারের ফলনেই তার প্রভাব পড়তে পারে।
📌 শেষ কথা
কৃষিতে লাভবান হতে হলে শুধু প্রচলিত সারের ওপর নির্ভর না করে গাছের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। আপনার আমন ধান ক্ষেতকে রোগমুক্ত, গাঢ় সবুজ এবং ভরপুর কুশিতে ভরিয়ে তুলতে আজই “এবসাম” (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট) ব্যবহার করুন।
🌱 ভালো ফলনের সিদ্ধান্ত যত আগে নেবেন, ফল তত ভালো পাবেন।
📞 যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন
০১৮৪৪-৯০৮৫৪১
এবসাম অর্ডার করুন ➜